ঐতিহাসিক পটভূমি:
সমগ্র পৃথিবী যখন জাহিলিয়াতের আঁধারে নিমজ্জিত, পশুত্ব ও পাশবিকতায় ভারাক্রান্ত ধরিত্রী, বাতিল ও শয়তানিয়াতের দূর্দান্ত দাপটে পৃথিবীর অবস্থা যখন মুমূর্ষ, হিদায়েতের দিক নির্দেশনাসমূহ লালসাচ্ছন্ন হাতের বিকৃতির শিকার, এমনই এক মুহূর্তে হিদায়েতের বাণী নিয়ে আগমন করলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। উন্নত চরিত্র ও বিশুদ্ধ জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে তিনি অন্ধকার সমাজকে আলোর পথ দেখালেন, পরাধীনতার দাসত্ব থেকে মানব জাতিকে মুক্ত করলেন। আজ মুসলিম সমাজ নগ্নতা ও অসভ্যতার জোয়ারে ভেসে চলছে। ইসলামই মানব জাতিকে পরিপূর্ণ মর্যাদায় সমাসীন করেছে। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে মানব সমাজ আজ প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা হতে বঞ্চিত। এ কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, মুসলিম সমাজ আজ আল্লাহ বিমুখ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, অপরদিকে ইসলামী জীবনাদর্শ সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ থাকছে। যার ফলশ্রুতিতে মুসলমানেরা প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা থেকে নিদারুনভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই মানব জাতির এই দুরবস্থাকে বিবেচনাপূর্বক আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমের বদৌলতে উন্নত পরিবেশে, সুষ্ঠু ও সুন্দর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাপনায় দ্বীনি শিক্ষার সাথে সাথে উত্তম চরিত্র এবং সাধারণ শিক্ষায় (বাংলা, অংক ও ইংরেজী প্রভৃতি) শিক্ষিত করে আদর্শবান মানব জাতি গড়ার মানসে সুন্নাত ও তাক্বওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্রহণযোগ্যতার দৃঢ় প্রত্যয়ে বাচ্চাদের জন্য একটি আদর্শ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। অতএব, আসুন! আপনার সন্তানকে গড়ে তুলুন একজন মুসলিম ও দ্বীনদার মুসলমানরূপে।
মাদরাসার নামকরণ ঃ
যে সকল মহান ব্যক্তিদের ত্যাগ তিতীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ ইসলামের মহান আদর্শ সম্পর্ক অবগতি লাভ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব ছিলেন সদর সাহেব খ্যাত আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.)। তিনি জীবদ্দশায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বহু মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। জামেয়া মিল্লিয়া আরাবিয়া খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসাটি তার দ্বীনি খেদমতের অন্যতম একটি নমুনা। তিনি সর্বস্তরের মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে খাদেমুল ইসলাম নামক একটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন তৈরি করেছেন। এই সংগঠন মানুষের দ্বীনি খেদমতের পাশাপাশি জাগতিক সমস্যাতেও জনসাধারনের পাশে থেকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই কল্যাণমুখী সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে উপলক্ষ করেই এই প্রতিষ্ঠানের নাম জামেয়া মিল্লিয়া আরাবিয়া খাদেমুল ইসলাম নামে নামকরণ করা হয়েছে।
মাদরাসার উদ্দেশ্য:
মহান আল্লাহ তায়ালার ভালবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখেরাতের চুড়ান্ত সফলতা অর্জন করা।
